চন্দনাইশ নির্বাচন ডিউটি - ২৮-০৫-২০১৬ইং
গত ২৬/০৫/২০১৬ইং তারিখ নিরবাচন ডিউটি করার জন্য সিএমপি হইতে রওয়ানা করি দুপুর ০১.৩০ ঘটিকার সময়। চন্দনাইশে পৌচাতে পৌঁচাতে প্রায় বিকাল হয়ে যায়। প্রথমেই চন্দনাইশ থানাতে যাই, তারপর সেখান থেকে আমাদেরকে “কাশেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়” এ থাকার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তারাতারি করে দৌড়ে যায় স্কুলের রুমে কিন্তু সেখানে দেখি আমাদের আগেই রুম দখল করে নিয়েছে জেলা পুলিশ, ব্যাটালিয়ন পুলিশ আরো বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত পুলিশ ভাইয়েরা।
কি আর করার, দাড়িয়ে রইলাম স্কুলের বারান্দার এক পাশে। অবশেষে আবিস্কার করলাম স্কুলের এবাদত খানা। আর দেরি না করেই ঢুরে পরলাম রুমে। বিছানাপত্র রেডি করে ফেললাম। তারপর অস্ত্রশস্ত্র রেখে গেলাম নাস্তা করার জন্য। নাস্তা করে আবার ফিরে এলাম রুমে। সবাই এখন চিন্তা করতেছে রাতের খাবারের জন্য। অনেক পুলিশ এসেছি কিন্তু সে তুলনায় বাজারে হোটেল ও কম।
শেষমেষ আমাদের সাথে ডিউটিতে গিয়েছিল আমদেরই অফিস থেকে ”হান্নান” নামের একটি ছেলে তার বাড়ি ছিল চন্দনাইশ। সে হঠাৎ আমাকে ফোন করে বলল, আপনারা আজকে রাতে আমার বাড়িতে খাবার খাবেন। তো আমরা ০৫ জন রাত ০৯.০০/১০.০০ ঘটিকার দিকে রওয়ানা করলাম তার বাড়িতে। খাবার খেয়ে ফিরতে ফিরতে একটু রাত হয়ে গিয়েছিল। তাই আর গাড়ি পেলাম না। কি আর করার, সবাই হাটা গাড়ি শুরু করে দিলাম। রুমে এসে সবাই নাক টান টান করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল ঘুম থেকে ওঠেই দৌঁড় দিলাম বাথরুমের দিকে, কিন্তু না সেখানে দেখি আমার আগেই অনেকে গিয়ে দাড়িয়ে আছে। যাই হোক কোন রকম বাথরুম সেড়ে গেলাম উপজেলার এক পুকুরে গোসল করার জন্য। সেখান থেকে এসে নাস্তা করে আবার রুমে ফিরে আসলাম।
এখন দুপুরের খাওয়ার পালা আর এদিকে মাইক দিয়ে সবাইকে ডাকা-ডাকি ব্রিফিং প্যারেডে থাকার জন্য। পরে জানতে পারলাম আমার ডিউটি হচ্ছে একটি ”পাঠান দন্ডি নামক মাদ্রাসায়” পরে আমাদের ইনচার্জ এএসআই/ সাইদুর রহমান এর সাথে পরিচয়। তিনি নিয়ে গেলেন একটি হোটেলে। খাবারের বিল তিনিই দিলেন।
পরে আমাদেরকে একটি ছোট যাত্রী বাহি চার চাকার গাড়ি দিল। আমাদের সাথে আরো ০২ জন আনসারের এপিসি ও দিল। স্কুলের সামনে উপজেলা। সেখানে গিয়ে দেখি প্রিজাইডিং অফিসার আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছে। সেখান থেকে আমরা বেলট পেপার সহ ভোটের যাবতীয় জিনিসপত্র বুঝে নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলাম।
রাস্তাটা ছিল অনেক সুন্দর। রাস্তার দুই পাশে বিল আর কিনারে রয়েছে হরেক রকমের গাছ গাছালি। আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমি এই মুহুর্তে সুইজার ল্যান্ডের কোন এক রাস্তায় গাড়ি করে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পরে পৌঁছে গেলাম কেন্দ্রে। সেখানে মাদরাসার হুজুর আমাদেরকে রুমের তালাচাবি বুঝিয়ে দিলেন। আমরা থাকার জন্য ২য় তলা দক্ষিণ পাশের রুমটি ঠিক করি।
মাদরাসার পরিবেশটা অনেক সুন্দর। পেছনে আর উত্তর-দক্ষিনে বিল। উত্তর-পশ্চিমে দেখি বিশাল এক পুকুর আর সামনে মাঠ। জায়গাটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছিল।
বিকাল হতেই বেড়িয়ে গেলাম হাটার জন্য একা একা। যতই হাটতেছি তথই ভাল লাগতেছিল। জায়গাটা অনেক সুন্দর ছিল। কিছুদুর যাওয়ার পর দেখি একটি স্কুল। (স্কুলের ছবি- ২৭/০৫/২০১৬)
তারপর দেখতে পেলাম একটি নদী। নদীর উপরে একটি স্টীলের ব্রীজ। এক বয়স্ক লেককে জিজ্ঞাসা করলাম। নদীটির নাম কি। তিনি বললেন এটার নাম চামুদরিয়া নদী। নদী পার হওয়ার পরে দেখলাম একটি বাজার। বাজারে লেখা আছে পটিয়া। মানে বুঝলাম না। পরে একজন বলল নদীর এ পার পটিয়া আর ঐ পার চন্দনাইশ।
প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। একজনকে জিজ্ঞাস করলাম ভাই এখানে কোন বড়ুয়া পাড়া আছে নাকি। তিনি একটা রাস্তা দেখায় দিলেন। বললেন এই রাস্তা দিয়ে ৩০ মিনিট হাটলে বড়ুয়া মন্দির পাবেন। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। মোবাইলের লাইট দিয়ে কোন রকম হাটতে হাটতে পেয়ে গেলাম সেই মন্দির। বন্দনা করলাম। ভান্তেকেও বন্দনা করলাম। তারপর ভান্তেকে বিষয়টা বললাম, তখন ভান্তে আমাকে মেইন রাস্তায় যাওয়ার জন্য আরেকটা সহজ পথ দেখিয়ে দিলেন। (মন্দিরের কিছু ছবি- ২৭/০৫/২০১৬)
হেটে বাজারে চলে এলাম। সেখান থেকে যাওয়ার সময় ৪০ টাকা দিয়ে একটি কাঠাল ও নিয়ে গেলাম। তারপর হেটে হেটে মাদরাসায় পৌচলাম। সেখানে মাদরাসার ছোট ৪/৫ জন ছেলেকে ডাকলাম আর ৪/৫ জন গ্রাম্য আনসার মিলে কাঠালটি খেলাম। কাঠাল খেয়ে সবচেয়ে বেশী খুশি হয়েছিল মাদরাসার ছোট ছেলে গুলো। কারন ঐ এলাকায় কাঠাল তেমন একটা পাওয়া যায় না।
রাত তখন ০৯.০০ আওয়ামিলীগের এক মেম্বার প্রারথী দেখি টলি করে আমাদের কেন্দ্রের সবার জন্য ভাত, মুরগি সবজি ও গরুর মাংস নিয়ে আসলেন। আমি তো দেখে অবাক। কারণ আশে পাশে তেমন কোন দোকান ছিল না। যাই হোট খেয়েদেয়ে শুয়ে পরলাম।
সকাল ০৬.০০ টায় ঘুম থেকে ওঠে বাথরুম সেড়ে চলে গেলাম গোসল করতে মাদরাসার সেই বড় পুকুর টাতে। পুকুরটার গভীরতা বেশী হলেও গোসল করতে বেশ ভালই লাগল। (পুকুরের কিছু ছবি- ২৭/০৫/২০১৬)
যাই হোক গোসল করে আসার পরেই দেখি সেই মেম্বার প্রারথী সেকালের নাস্তা নিয়ে হাজির। সকাল ০৮.০০ ঘটিকা থেকে তো ভোট শুরু তাই নাস্তা খেয়ে সবাই রেডি হয়ে গেলাম। ভোট শুরু হল। ভোট চলতেছে। কিন্তু মহিলারা অভিযোগ করতেছে আমাদের থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে চেয়ার ম্যানের এজেন্ট নিজেই ভোট দিচ্ছেন। পরে গিয়ে দেখলাম হ্যা সত্যি। একটু ধমক দিলাম। কিছুক্ষণ অপ ছিল। সকাল তখন ১০.০০ কয়েক জন লোক রুমে এসে দেখলাম জাল ভোট দিচ্ছে। তখন আমি ভিডিও করা শুরু করে দিলাম। ওরা আমাকে বলতেছে আমরা আওয়ামিলীগের লোক। আপনি এখান থেকে বেড়িয়ে যান। পরে আমিও রেগে গেলাম। আপনার বের না হলে আমি গুলি করতে বাধ্য হব। পরে আমাকে বলতেছে ভাই ভাই একটু শান্ত হও। পকেট থেকে দেকি কচ কচ করে ২০০০ টাকা বের করে আমার পকেটে ডুকিয়ে দিল। আমি তারপর আবার ২য় তলায় চলে গেলাম। তখন আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় ছিল। বেশি কথা বললে চাকরি চরে যাবে তাই বাড়াবাড়ি করি নাই। গরীবের ছেলে চাকরীটা চলে গেলে একেবারে শেষ। (জাল ভোটের ভিডিও - ২৮/০৫/২০১৬)
দুপুরের দিকে দেখি আবার খাবার নিয়ে চলে এসেছেন সেই সেম্বার প্রারথী। ঘোরাঘুরি আর ০২ জন কম বয়সী মহিলা আনসার ছিল। ওদের সাথে দুষ্টমি করতে করতে প্রায় বিকেল হয়ে এলো। ওরা একটু সুন্দর ছিল। একজনের নাম ছিল রেশমা আরেকজন ছিল মিষ্টি। দুজনেই সুন্দর ছিল। বার বার নজর চলে যাচ্ছিল তাদের দিকে। পরে ডিউটি শেষে ওরা চলে যাওয়ার সময় মিষ্টি নামের মেয়েটিকে আমার মোবাইল নম্বরটি দিয়ে দিলাম। আজ সহ প্রায় ০৪ দিন হয়ে গেল এখনো ফোন করে নাই। অনেক কষ্টে আছি ভাই। কেমনে মনেরে বুঝাইতাম।
ভোট শেষ চলে আসার সময় গ্রাম্য আনসার জাবেদ আর পিয়ারু অনেক আফসোস করতেছে। বলতেছিল ভাই আপনার মত ফ্রি মাইন্ডের মানুষ আর দেখি নাই। জাবেদ বলল ভাই আপনাকে অনেক মিস করব। ভাই আপনার হাতের ঘড়িটা আমাকে দিয়ে দেন। কি আর করার। আমার ঘড়িটা জাবেদ নিয়ে নিল।
চলে আসার সময় কিছু ছবি তুলে ছিলাম সেগুলো - তারিখ- ২৮/০৫/২০১৬ইং। পৌরসভায় গিয়ে ভোট জমা দিয়ে রওয়ানা দিলাম সেই দামপাড়া পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে। সিএমপি’তে পৌচতে প্রায় রাত ১১.০০ ঘটিকা হয়ে গিয়েছিল।
এই দুইজন মাদরাসার ছেলে। একজনের নাম ইয়াছিন আর যিনি টুপি দিছে তার নাম ইমাম। আসার সময় যখন এদেরকে কিছু কেক, কলা আর কেক দিলাম এরা কতযে খুশি হইছে তা আমি লিখে বুঝাতে পারব না।
আজ এত টুকুই ভাল থাকবেন সবাই। আসলে আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যে হল স্মৃতি রাখার জন্য, অন্য কিছু না।

















Comments
Post a Comment